HomeTechসোশ্যাল মিডিয়া বলতে কী বোঝায়?

সোশ্যাল মিডিয়া বলতে কী বোঝায়?

সোশ্যাল মিডিয়া হল সমস্ত লোককে একত্র করে তাদেরকে একটি সংযোগ স্থান তৈরি করা, আমাদের মাঝে যোগাযোগ স্থাপন করে দেওয়া তাদেরকে সমস্ত বিষয়বস্তু ভাগ করে দেওয়া। এমন একটি পদ্ধতি যার সাহায্যে একজন ব্যক্তি অপর জনের সাথে খুব দ্রুততার সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন মেসেজিং করতে পারবে ভিডিও বার্তায় কথা বলতে পারবে,  তাছাড়া তাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এখান থেকে খুব সুন্দরভাবে পেয়ে যাবে,  নিজেদের ব্যবসা বৃদ্ধির কাজে ব্যবহার করবে ইত্যাদি । 

সোশ্যাল মিডিয়া বলতে কী বোঝায়?

এটি হলো একটি মাধ্যম যার সাহায্যে যোগাযোগ স্থাপন করা যায়। বন্ধু বান্ধব আত্মীয়স্বজন সবার সাথে সুন্দর মুহুর্ত কাটানোর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা যায়। প্রয়োজনীয় জিনিস একত্রে শেয়ার করা যায়।  বর্তমানে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম রয়েছে যেগুলো মানুষ ব্যবহার করছে বিনোদনের ক্ষেত্রে কাজের ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে এছাড়া আরো অন্যান্য ক্ষেত্রে। তবে বেশিরভাগ মানুষ সোশ্যাল মিডিয়ায় বলতে ফেসবুক টুইটার ইনস্টাগ্রাম কে বোঝে এছাড়া আরো অনেক সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম রয়েছে যেগুলো মানুষ নিত্যদিনের কাজে ব্যবহার করে থাকে। 

সোশ্যাল মিডিয়ার বর্ণনা:

সোশ্যাল মিডিয়া এমন একটি শব্দ যা ওয়েবসাইট কে নির্দেশ করে থাকে,  এটি ব্যবহার করে মানুষ তাদের প্রয়োজনীয় কাজকর্ম করতে পারে একে অপরের সাথে যোগাযোগ স্থাপন ছাড়াও আরও নানাবিধ কাজকর্ম করে থাকে। তাছাড়া কাজের ক্ষেত্রে তারা কথাবাত্রা বলা থেকে শুরু করে কাজের অভিজ্ঞতা পর্যন্ত এই সেক্টরের মাধ্যমে শেয়ার করতে পারেন। 

তবে আপনি যদি নতুন একজন ব্যবসায়ী হয়ে থাকেন তাহলে আপনার প্রোডাক্ট উপলক্ষে প্রচারণার জন্য সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে পারেন।  তাছাড়া আপনি যদি নতুন নতুন ব্লগিং শুরু করেন সেক্ষেত্রে আপনি সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে পর্যাপ্ত পরিমাণ ট্রাফিক আপনার ওয়েবসাইটে নিতে পারবেন। 

তবে সকল প্ল্যাটফর্ম সব ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যায় না এবং এটা ব্যবহার না করাই ভালো এতে এদের সৌন্দর্য নষ্ট হয়।   অনেক সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম রয়েছে সেগুলোর ভিতরে সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো Facebook, Twitter, Instagram, Snapchat, এবং LinkedIn অন্যতম। এইসকল প্লাটফর্ম গুলোর প্রত্যেকটি ভিন্ন ভিন্ন কাজ রয়েছে সবগুলো দিয়ে সব রকমের কাজ করাও ঠিক না বিশেষ করে ফেইসবুক দিয়ে মানুষ ব্যবহার করে বিনোদনের ক্ষেত্রে ম্যাসেজিং এর ক্ষেত্রে।  আবার টুইটার বেশি ব্যবহার করে থাকে সেলিব্রেটিরা এবং  ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করে তারা নতুন নতুন ছবি আপডেট দিতে, আর টুইটার ব্যবহার করে থাকেন কোন কিছু লিখে আপডেট দিতে হলে।  তবে ফেসবুকে এই দুটোই একত্রে করা যায় এবং ভিডিওর মাধ্যমে চাইলে প্রমোশন করানো যায়।

 তবে প্রফেশনাল কাজের ক্ষেত্রে এবং ব্যবসায়িক কাজের ক্ষেত্রে Facebook,LinkedIn   বেশি ব্যবহৃত হয়।নতুন যারা ব্যবসায়ীক কাজে যুক্ত হতে চায় তাদের জন্য ফেসবুক সেরা হতে পারে কারণ এরা সোশ্যাল মিডিয়া ব্লগিং এর সাহায্যে সামনের দিকে অগ্রসর হতে পারে। LinkedIn ব্যবহার করে সাধারণত প্রফেশনাল কাজ পাওয়া যায় তাছাড়া যারা ফ্রিল্যান্স জগতে কাজ করে থাকে তারা এখানে বেশ ভালো পরিমাণে কাজ পাবে। তাই বোঝা যাচ্ছে এখানে দুই ক্ষেত্রের দুই ধরনের চাহিদা রয়েছে। আপনি যদি ব্লগিং করতে চান তখন আপনি ফেসবুকে নাকি অন্য সেক্টরে গেলে কিন্তু সেখান থেকে তেমন সুযোগ সুবিধা ভোগ করতে পারবেন না।

বর্তমানে ফেসবুকের ইউজার সংখ্যা 2 বিলিয়নেরও বেশি তাই এখানে যদি আপনি নিজের একটা ছোট্ট অবস্থান তৈরি করতে পারেন তাহলে আপনি যদি অন্য কোথাও ক্যারিয়ার গঠন করতে চান সেইটার ক্যারিয়ার গঠন ও বেশ চমকপ্রদ হয়ে উঠবে।  কারণ আপনি যখনই কোন কাজ করতে যাবেন সেখানে আপনার লোকবল প্রয়োজন হবে উদাহরণ হিসেবে ধরা যায় আপনি যদি একটা প্রোডাক্ট সেল করতে চান সে ক্ষেত্রে প্রোডাক্ট কেনে এমন একজনকে লাগবে। 

অথবা আপনি যদি ব্লগিং করে উপার্জন করতে চান সেক্ষেত্রে আপনার ওয়েবসাইটে ভিজিটর লাগবে অর্থাৎ বুঝতেই পারছেন কোথাও লোকবল ছাড়া কাজ করা বা উপার্জন করা সম্ভব নয় আবার যদি কেউ চায় যে তার প্রডাক্ট কে সবার সামনে উপস্থাপন করতে,  এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ব্যক্তি দেখে বেছে বেছে সবার কাছে তার প্রোডাক্ট দেখাতে পারবে না তাই এমন একটা মাধ্যমের প্রয়োজন হয় যেখানে সে তারপর প্রডাক্ট দিল ঐ সকল প্রোডাক্ট এর চাহিদা অনুসারে সকল ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছে যাবে।

আর এই সকল কিছুই সম্ভব হয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম গুলোর মাধ্যমে তাই সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম গুলো সঠিক ব্যবহার করতে পারলে আপনি আপনার ক্যারিয়ার শুদ্ধভাবে করে তুলতে পারবেন। 

সোশ্যাল মিডিয়া কত প্রকারের?

বর্তমানে আমরা যে সকল সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে থাকে সেগুলোর প্রত্যেকটিরই কিছু নির্দিষ্ট দিক রয়েছে যেগুলো সম্পর্কে আমরা খুব একটা জানিনা। নামটা সম্পর্কে একটু ভালোভাবে জেনে নি। তাহলে আমাদের বুঝতে সুবিধা হবে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম গুলো কিভাবে কাজ করে?

সকল প্ল্যাটফর্মগুলোতে মূলত ছয় প্রকার হয়ে থাকে। 

  1. সম্পর্ক স্থাপনের জন্য যে সকল ওয়েবসাইট ব্যবহার করে থাকি আমরা সেগুলোর ভেতর ফেসবুক ইনস্টাগ্রাম হোয়াটসঅ্যাপ ইত্যাদি অন্যতম এগুলো মূলত একে অপরের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করা ভিডিও বাত্রা ইত্যাদি কাজের জন্য তৈরি করা হয়েছে।
  2. টুইটার এটি একটি জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম হলেও আমরা অনেকেই হয়তো জানি না এটি একটি মাইক্রো ব্লগিং প্লাটফর্ম। লক্ষ করলে দেখবেন যে এখানে খুব ছোট ছোট লেখার মাধ্যমে পোস্ট করতে হয় তাছাড়া এখানে ছোট ভিডিও এবং ছোট সাইজের ইমেজ ব্যবহারের অনুমতি রয়েছে। আপনি চাইলেই এখানে 500 শব্দের কোন লেখা পোস্ট করতে পারবেন না তার জন্য আপনাকে তাদের রুলস অনুযায়ী ছোট মাইক্রো নিস টাইপের লেখা গুলো দেখতে হবে। আপনি চাইলেই এখানে 500 শব্দের কোন লেখা পোস্ট করতে পারবেন না তার জন্য আপনাকে তাদের রুলস অনুযায়ী ছোট মাইক্রো নিস টাইপের লেখা গুলো দেখতে হবে। এইসব এর জন্যই এটিকে মাইক্রো ব্লগিং প্লাটফর্ম হিসেবে গণ্য করা হয়।
  3. আমরা ফটো শেয়ার করে থাকি ফেসবুক কেউ কিন্তু মূলত ফটো শেয়ার করার জন্য আলাদা দুটি প্লাটফ্রম তৈরি হয়েছিল যেগুলোর একটি বহুল প্রচলিত হলেও আরেকটি নাম খুবই কম শোনা যায়।  বহুল প্রচলিত এই সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম নাম হল ইনস্টাগ্রাম। তবে ফটো শেয়ারিং প্লাটফর্ম আরো একটি রয়েছে তবে সেটি খুব কম সংখ্যক লোক ব্যবহার করে । সেই ফটো শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম টির নাম হল Flickr । 
  4. এবার আসি ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম নিয়ে ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম নিয়ে কথা বলতে হয়তো অনেকের মাথায় একটি কথা আসছে ইউটিউব।  এটিও একটি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ।  তবে এই সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ব্যতীত আরো একটি ভিডিও শেয়ারিং প্লাটফর্ম রয়েছে তবে সেটিও খুব কম সংখ্যক লোক ব্যবহার করে থাকে কারণ ইউটিউবে উপার্জনের ক্ষমতা রয়েছে কিন্তু সেটি ব্যবহার করে কোন প্রকার উপার্জন করা যায় না । সেই ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম টির নাম হল Vimeo।  
  5. ওয়েবসাইট রয়েছে যেগুলোর মাধ্যমে শুধু পর্যালোচনা করা হয় এ সকল ওয়েবসাইট গুলো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এর অন্তর্ভুক্ত।  এরকম দুটি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এর নাম হলো Yelp এবং TripAdvisor
  6. সোশ্যাল বুকমারকিং ওয়েবসাইট নামেও কিছু ওয়েবসাইট রয়েছে যেগুলো অন্যের ওয়েবসাইটকে বুকমার্ক করতে সহযোগিতা করে। এমন ওয়েবসাইট গুলোর ভিতর অন্যতম ওয়েবসাইট হলো Digg এবং StumbleUpon

উপসংহার:

পরিশেষে বলা যায় বন্ধুবান্ধব আত্মীয়স্বজন সবার সাথে যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি আমরা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করতে পারি আমাদের নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় কাজে ব্যবসায়ী কাজে। তবে সবকিছুর অতিরিক্ত পরিমাণে ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকাই ভাল কারণ আপনি যদি কোনো প্রকার কাজ না করেও দিনে প্রচুর পরিমানে সময় এখানে ব্যয় করেন তবে আপনি বাইরের জগত থেকে পুরোপুরি বিচ্যুত হয়ে যাবেন তাই কাজের বিষয়গুলো মাথায় রেখে বাকিটা আপনার নিজেকে চিন্তা করে বের করতে হবে আপনি কোন দিকে কতটুকু সময় দিবেন। 

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular